আমার অভিজ্ঞতায় সাময়িক ইমেইলের জাদু
বিশ্বাস করুন, আমার জিমেইল ইনবক্সটা একসময় প্রায় ব্যবহার অযোগ্য হয়ে গিয়েছিল। নানা রকম ফোরামে সাইন আপ করা, নতুন গেমের বিটা টেস্টিংয়ের জন্য নাম লেখানো – এসব করতে গিয়ে যে কী পরিমাণ অপ্রয়োজনীয় মেইল আসত, বলার মতো না! Bikroy-এ কিছু একটা খুঁজতে গিয়েও কতজনের অফার বা নিউজলেটার সাবস্ক্রাইব হয়ে যেত, কে জানে! Daraz Bangladesh-এও তো মাঝে মাঝে এমন হয়। মনে হতো, এই স্প্যামগুলো কি কখনও থামবে না?কেন মূল ইমেইল আইডি বাঁচিয়ে চলবেন?
আসলে, আমাদের মূল ইমেইল আইডিগুলো, যেমন Gmail বা Yahoo, খুব ব্যক্তিগত। সেখানে আমাদের অনেক গুরুত্বপূর্ণ তথ্য থাকে। যখন আমরা কোনো অচেনা ওয়েবসাইটে বা ফোরামে সাইন আপ করি, তখন আমাদের ইমেইল আইডি তাদের ডেটাবেসে চলে যায়। এরপর কী হয়? হয় তারা সেই আইডিগুলো অন্য কোম্পানির কাছে বিক্রি করে দেয়, অথবা তাদের নিজেদের বিজ্ঞাপনের জন্য ব্যবহার করে। ফলাফল? আপনার ইনবক্স ভরে যায় নানা রকম অপ্রয়োজনীয় অফার, লটারি জেতার ভুয়া খবর আর হাজারো লিংকে। Last week, my friend Rina was telling me how she signed up for a new fashion website just to get a discount, and now her main Yahoo account is flooded with clothing ads. She was so frustrated!"সাময়িক ইমেইল" – আপনার ডিজিটাল শিল্ড
এখান থেকেই সাময়িক ইমেইল সার্ভিসের ধারণাটা আমার মাথায় আসে। এগুলোকে Disposable Email Address বা Throwaway Email Address-ও বলা হয়। সহজ ভাষায়, এগুলো হলো কিছু সময়ের জন্য তৈরি করা ইমেইল আইডি। আপনি যখন কোনো ওয়েবসাইটে সাইন আপ করতে চান, কিন্তু চান না যে আপনার আসল ইমেইল আইডি সেখানে যাক, তখন এই সাময়িক ইমেইল আইডি ব্যবহার করতে পারেন।কখন কাজে লাগে এই সাময়িক ইমেইল?
* ফোরামের জন্য সাময়িক ইমেইল: ধরুন, আপনি কোনো টেক ফোরামে প্রশ্ন করতে চান বা কোনো আলোচনায় অংশ নিতে চান, কিন্তু আপনার আসল ইমেইল আইডি সেখানে দিতে আপনার দ্বিধা হচ্ছে। সাময়িক ইমেইল ব্যবহার করুন। * কেনাকাটার জন্য নিরাপদ ইমেইল: Bikroy বা Daraz-এর মতো প্ল্যাটফর্মে যখন কোনো নতুন অফার বা ছাড়ের জন্য সাইন আপ করছেন, তখন সাময়িক ইমেইল ব্যবহার করলে আপনার মূল অ্যাকাউন্টে অযাচিত মেইল আসা বন্ধ হবে। * বিটা টেস্টিংয়ের জন্য: নতুন কোনো মোবাইল অ্যাপ বা গেমের আর্লি অ্যাক্সেস বা বিটা টেস্টিংয়ের জন্য প্রায়ই ইমেইল দিয়ে রেজিস্টার করতে হয়। এতে আপনার মূল আইডি স্প্যামে ভরে যাওয়ার ভয় থাকে না। * ওয়েবসাইট ভেরিফিকেশন: অনেক সময় কোনো ওয়েবসাইটে শুধু একবারের জন্য লগইন বা কিছু ডেটা ডাউনলোডের জন্য ইমেইল ভেরিফিকেশন চায়। সেক্ষেত্রে সাময়িক ইমেইল খুব কাজের।কীভাবে কাজ করে?
এটা একদম সহজ! আপনি একটি সাময়িক ইমেইল সার্ভিস ওয়েবসাইটে যাবেন (যেমন TempTom)। সেখানে আপনাকে একটি টেম্পোরারি ইমেইল অ্যাড্রেস দেওয়া হবে। আপনি সেই আইডি ব্যবহার করে যেকোনো ওয়েবসাইটে সাইন আপ করবেন। এরপর ওই ওয়েবসাইটের ভেরিফিকেশন মেইল বা যেকোনো নোটিফিকেশন আপনি ওই টেম্পোরারি ইমেইল আইডি'র ইনবক্সেই পেয়ে যাবেন। সাধারণত এই ইমেইল আইডিগুলো কিছু নির্দিষ্ট সময় পর (যেমন ১৫ মিনিট, ১ ঘণ্টা বা ২৪ ঘণ্টা) অটোমেটিকভাবে ডিলিট হয়ে যায়।স্প্যাম এড়িয়ে চলুন – জীবন সহজ করুন!
সত্যি বলতে, সাময়িক ইমেইল সার্ভিসগুলো আমার অনলাইন জীবন অনেক সহজ করে দিয়েছে। এখন আমি নিশ্চিন্তে নতুন কোনো সার্ভিস বা ফোরামে যোগ দিতে পারি, কারণ আমি জানি আমার মূল জিমেইল আইডি সুরক্ষিত থাকবে। আর অপ্রয়োজনীয় মেইলের স্তূপ থেকে মুক্তি পাওয়াটা যে কতটা শান্তির, তা আপনি ব্যবহার করলেই বুঝবেন। আমার মনে হয়, যারা অনলাইন জগতে একটু বেশি সক্রিয়, তাদের সবারই এই সাময়িক ইমেইল সার্ভিসগুলো সম্পর্কে জানা উচিত। এটা শুধু স্প্যাম থেকেই বাঁচায় না, আপনার অনলাইন গোপনীয়তাও বাড়ায়। TempTom-এর মতো সার্ভিসগুলো ব্যবহার করে দেখুন, আশা করি আপনারও ভালো লাগবে!
দ্রুত অস্থায়ী ইমেইল ব্যবহার করে দেখতে চাইলে, রেজিস্ট্রেশন আর ভেরিফিকেশন কোড নিতে নিজের আসল ইমেইল না দিয়েও কাজ হয়ে যায়।