আমার নিজের অভিজ্ঞতা থেকেই বলছি...
বিশ্বাস করুন আর নাই করুন, আমি নিজেও একসময় এই সমস্যাটায় ভুগেছি। ধরুন, আপনি নেটফ্লিক্স বা স্পটিফাই-এর একটা ফ্রি ট্রায়াল নিতে চান। দারুণ অফার, তাই না? কিন্তু সমস্যা হলো, অ্যাকাউন্ট খোলার সময় একটা ইমেইল আইডি তো দিতেই হবে। আর সেই ইমেইলটা একবার দিয়ে দিলে কী হয়? পরের দিন থেকেই শুরু হয়ে যায় নানা রকম প্রমোশনাল অফার, নিউজলেটার, আর ফালতু সব মেইল। প্রথম প্রথম হয়তো অতটা সমস্যা মনে হয় না, কিন্তু কিছুদিন পর যখন আপনার ইনবক্স ভরে যায়, তখন মেজাজটাই খারাপ হয়ে যায়। জিমেইল, ইয়াহু, আউটলুক – সব একই অবস্থা! আর যদি Bikroy বা Daraz Bangladesh-এর মতো সাইটে কিছু কেনার জন্য অ্যাকাউন্ট খোলেন, তখনও একই কাহিনি। ব্যক্তিগত তথ্য সুরক্ষা নিয়েও চিন্তা হয়, কোনটা আসল আর কোনটা স্প্যাম, বুঝতেই পারবেন না।
স্প্যামের হাত থেকে বাঁচতে টেম্পোরারি ইমেইল কেন সেরা?
আসলে, সবকিছুর জন্য নিজের আসল ইমেইল আইডি ব্যবহার করাটা বুদ্ধিমানের কাজ নয়। বিশেষ করে যখন কোনো সাইটে শুধু একবারের জন্য অ্যাকাউন্ট ভেরিফিকেশন দরকার। এখানেই আসে টেম্পোরারি ইমেইল সার্ভিসের গুরুত্ব। এগুলোকে ডিসপোজেবল ইমেইল বা ফ্লাশ ইমেইলও বলা হয়। মানে, আপনি একটা ইমেইল আইডি পাবেন যেটা সাময়িক, এবং কাজ হয়ে গেলে ওটা আপনি ফেলে দিতে পারবেন।
ভাবুন তো, আপনি নেটফ্লিক্সের এক মাসের ফ্রি ট্রায়ালের জন্য একটা অ্যাকাউন্ট খুললেন। টেম্পোরারি ইমেইল ব্যবহার করলেন। ভেরিফিকেশন হয়ে গেল, সিনেমা দেখা শুরু করলেন। এক মাস পর যদি আর সাবস্ক্রিপশন না চান, তাহলে ওই টেম্পোরারি ইমেইল আইডি নিয়ে আপনার কোনো চিন্তা নেই। ওটা এমনিতেই কিছুক্ষণের মধ্যে বা ২৪ ঘণ্টার মধ্যে অটোমেটিকভাবে ডিলিট হয়ে যাবে। আপনার আসল ইমেইল ইনবক্স একদম পরিষ্কার থাকবে। কোনো স্প্যাম নেই, কোনো অযাচিত মেইল নেই!
আমার এক বন্ধুর গল্প...
গত সপ্তাহে আমার বন্ধু রনি বলছিল, সে একটা অনলাইন কোর্সের জন্য সাইন আপ করতে গিয়েছিলো। কোর্সের ম্যাটেরিয়ালগুলো ডাউনলোড করার জন্য একটা ইমেইল ভেরিফিকেশন দরকার ছিল। সে তার পার্সোনাল জিমেইল আইডি ব্যবহার করেছিল। ব্যস, তারপর থেকে শুরু! প্রতিদিন ডজন ডজন মেইল আসছে। কখনো লোন অফার, কখনো লটারির বিজ্ঞাপন! রনি তো রীতিমতো বিরক্ত। বলছিল, "দোস্ত, আমার মেইলবক্সটা মনে হচ্ছে একটা আবর্জনার স্তূপ হয়ে গেছে। কোনটা দরকারি আর কোনটা নয়, বুঝতেই পারছি না।" আমি ওকে টেম্পোরারি ইমেইল ব্যবহার করার কথা বললাম। ও প্রথমে একটু দ্বিধাগ্রস্ত ছিল, কিন্তু যখন ব্যবহার করল, তখন নিজেই অবাক হয়ে গেল। এখন ও ছোটখাটো ওয়েবসাইটে অ্যাকাউন্ট খোলার জন্য বা কোনো অফার নেওয়ার জন্য সবসময় টেম্পোরারি ইমেইল ব্যবহার করে। আর নিজের আসল ইমেইলটা শুধু জরুরি কাজের জন্য রাখে।
কীভাবে টেম্পোরারি ইমেইল আপনার ব্যক্তিগত তথ্য সুরক্ষা নিশ্চিত করে?
এখানেই আসল মজা। যখন আপনি কোনো ওয়েবসাইটে আপনার আসল ইমেইল আইডি দেন, তখন সেই সাইট আপনার ইমেইলটা তাদের ডেটাবেসে সেভ করে রাখে। তারা সেটা অন্য কোম্পানির কাছে বিক্রিও করতে পারে। কিন্তু টেম্পোরারি ইমেইল ব্যবহার করলে, আপনার আসল পরিচয় গোপন থাকে। কোনো ডেটা লিকেজ হলেও আপনার ব্যক্তিগত তথ্যের ঝুঁকি অনেক কমে যায়। বিশেষ করে, যখন আপনি এমন কোনো ওয়েবসাইটে যাচ্ছেন যেটাকে আপনি পুরোপুরি বিশ্বাস করতে পারছেন না, তখন টেম্পোরারি ইমেইল ব্যবহার করাটা বুদ্ধিমানের কাজ। এতে আপনার আসল ইমেইল আইডি সুরক্ষিত থাকে, আর আপনি স্প্যামের হাত থেকেও বাঁচেন।
শেষ কথা
তাই, আপনি যদি অনলাইন প্রাইভেসি নিয়ে একটুও চিন্তিত হন, অথবা আপনার ইনবক্সটাকে স্প্যামমুক্ত রাখতে চান, তাহলে টেম্পোরারি ইমেইল সার্ভিসগুলো একবার ব্যবহার করে দেখতে পারেন। নেটফ্লিক্স, স্পটিফাই-এর মতো স্ট্রিমিং সার্ভিসের ফ্রি ট্রায়াল হোক বা কোনো নতুন ওয়েবসাইটের জন্য অ্যাকাউন্ট খোলা – সবখানেই এটা কাজে দেয়। TempTom-এর মতো সার্ভিসগুলো ব্যবহার করা খুবই সহজ, আর আপনার অনলাইন জীবনটাকে অনেকখানি সহজ করে দিতে পারে। একবার চেষ্টা করেই দেখুন না!