হোম নিবন্ধ Netflix, Spotify-এর ফ্রি ট্রায়াল? এখন শুধু ডিসপোজেবল ইমেইল দিলেই হবে!
Netflix, Spotify-এর ফ্রি ট্রায়াল? এখন শুধু ডিসপোজেবল ইমেইল দিলেই হবে!

Netflix, Spotify-এর ফ্রি ট্রায়াল? এখন শুধু ডিসপোজেবল ইমেইল দিলেই হবে!

আমি তো প্রায়ই ভাবি, এই যে এত সব ওয়েবসাইটে সাইন আপ করতে হয়, বিশেষ করে যখন কোনো নতুন সার্ভিস ট্রাই করতে চাই, তখন কী যে একটা অবস্থা হয়! ধরুন, নেটফ্লিক্স বা স্পটিফাইয়ের ফ্রি ট্রায়ালটা নিতে চাইছি। এক মাস বেশ মজা করে গান শুনলাম বা সিনেমা দেখলাম, তারপর? ওদের সব ইমেইল, অফার, আর শেষে সাবস্ক্রিপশন রিনিউ করার নোটিফিকেশন আসা শুরু হয়ে যায়। সত্যি বলতে, এগুলো খুবই বিরক্তিকর। আমার মেইন জিমেইল বা ইয়াহু মেইলটা এই সব ফালতু মেইলে ভরে যায়!

আমার অভিজ্ঞতা: কেন ডিসপোজেবল ইমেইল আমার প্রিয় বন্ধু

আমার এক বন্ধু, নাম রফিক, গত সপ্তাহে বলছিল ওর এক অনলাইন শপে (ধরুন, Bikroy বা Daraz Bangladesh-এর মতো কোনো প্ল্যাটফর্মে) একটা বিশেষ অফার এসেছিল। কিন্তু ও অফারটা নিতে গিয়ে দেখল, নতুন অ্যাকাউন্ট খুলতে হচ্ছে। ও তো ভাবল, "ধুর! আমার মেইন মেইলটা দিয়ে আর একটা অ্যাকাউন্ট খুলব না।" ঠিক তখনই ওর মনে পড়ল ডিসপোজেবল ইমেইলের কথা। ও একটা টেম্পোরারি ইমেইল আইডি বানিয়ে নিল, অফারটা নিল, আর তারপর আইডিটা ডিলিট করে দিল। কী দারুণ বুদ্ধি, তাই না?

স্ট্রিমিং সার্ভিস ট্রায়ালের জন্য সেরা উপায়

আসলে, এই ডিসপোজেবল ইমেইল সার্ভিসগুলো আমার মতো যারা একটু প্রাইভেসি সচেতন, তাদের জন্য আশীর্বাদ। আপনি যখনই কোনো নতুন স্ট্রিমিং সার্ভিসের ফ্রি ট্রায়াল নিতে চাইবেন (যেমন Netflix, Spotify, Amazon Prime Video), আপনার আসল ইমেইল আইডি দেওয়ার কোনো দরকার নেই। কেন দরকার নেই, জানেন?

  • স্প্যাম থেকে মুক্তি: একবার আপনি আপনার আসল ইমেইল আইডি দিয়ে সাইন আপ করলেন, তো দেখলেন এরপর থেকে ওই প্ল্যাটফর্ম থেকে আপনার ইনবক্সে অফার, নিউজলেটার, আর প্রমোশনাল ইমেইল আসতে শুরু করেছে। কিছু দিন পর পর আবার নতুন কোনো সার্ভিস ট্রাই করতে গেলে একই ঘটনা। আপনার মেইলবক্সটা জাঙ্ক মেইলে ভরে যাবে।
  • বেনামী যোগাযোগ: অনেক সময় আমরা চাই না যে আমাদের আসল পরিচয় দিয়ে কোনো ওয়েবসাইটে রেজিস্ট্রেশন করি। হতে পারে সেটা কোনো ফোরাম, বা এমন কোনো সাইট যেখানে আমরা শুধু একবারের জন্য কিছু ডাউনলোড করতে চাই। ডিসপোজেবল ইমেইল আপনাকে একটা বেনামী যোগাযোগের ঠিকানা দেয়।
  • অতিরিক্ত অ্যাকাউন্ট তৈরি: ধরুন, আপনি একটা গেম খেলছেন বা কোনো অনলাইন টুল ব্যবহার করছেন যার জন্য অনেক সময় একাধিক অ্যাকাউন্ট লাগে। তখন বারবার আপনার আসল ইমেইল ব্যবহার না করে একটা টেম্পোরারি ইমেইল ব্যবহার করা অনেক সুবিধার।

কীভাবে কাজ করে এই ডিসপোজেবল ইমেইল?

খুব সহজ! আপনি যেকোনো টেম্পোরারি ইমেইল প্রোভাইডারের ওয়েবসাইটে যাবেন। ওরা আপনাকে একটা র্যান্ডম ইমেইল অ্যাড্রেস দেবে। আপনি ওই ইমেইল আইডি ব্যবহার করে যেকোনো ওয়েবসাইটে সাইন আপ করতে পারবেন। যখন ওই ওয়েবসাইটে কোনো ভেরিফিকেশন বা কনফার্মেশন ইমেইল আসবে, তখন আপনি টেম্পোরারি ইমেইল প্রোভাইডারের ওয়েবসাইটে গিয়েই সেই ইমেইলটি দেখতে পাবেন। কাজ শেষ? ব্যস, আপনি চাইলে ওই টেম্পোরারি ইমেইল আইডিটা ডিলিট করে দিতে পারেন। কোনো রেকর্ড থাকবে না, কোনো মেইল আসবে না আপনার আসল ইনবক্সে। Honestly, এটা একটা গেম চেঞ্জার!

আমার কিছু টিপস

  1. সঠিক সার্ভিস বেছে নিন: অনেক টেম্পোরারি ইমেইল সার্ভিস আছে। আমি ব্যক্তিগতভাবে TempTom-এর মতো সার্ভিসগুলো পছন্দ করি কারণ এগুলো সহজ, দ্রুত এবং নির্ভরযোগ্য।
  2. গুরুত্বপূর্ণ কাজের জন্য নয়: মনে রাখবেন, এই ইমেইলগুলো টেম্পোরারি। তাই ব্যাংক অ্যাকাউন্ট, অনলাইন পেমেন্ট বা খুব গুরুত্বপূর্ণ কোনো সার্ভিসের জন্য এগুলো ব্যবহার করা উচিত নয়।
  3. ভেরিফিকেশন ইমেইল চেক করুন: যদি কোনো ওয়েবসাইটে সাইন আপের পর ভেরিফিকেশন ইমেইল না আসে, তবে টেম্পোরারি ইমেইল প্রোভাইডারের ইনবক্সটা একবার চেক করে নিন।

সব মিলিয়ে, অনলাইন দুনিয়ায় নিজের প্রাইভেসি রক্ষা করাটা এখন খুব জরুরি। আর নেটফ্লিক্স, স্পটিফাইয়ের মতো প্ল্যাটফর্মের ফ্রি ট্রায়ালগুলো উপভোগ করার জন্য বা Bikroy, Daraz Bangladesh-এর মতো সাইটে কেনাকাটার সময় একটা অতিরিক্ত সুবিধা পেতে এই ডিসপোজেবল ইমেইলগুলো ব্যবহার করাই বুদ্ধিমানের কাজ। আপনিও একবার চেষ্টা করে দেখতে পারেন!