ডেটিং অ্যাপে 'ছদ্মবেশী' প্রোফাইল: মূল ইমেইল বাঁচান, নিজেকে সুরক্ষিত রাখুন
আচ্ছা, সত্যি করে বলুন তো, ডেটিং অ্যাপে প্রোফাইল বানানোর সময় নিজের আসল ইমেইল আইডিটা দিতে কেমন লাগে? আমার তো মনে হয়, একটু কেমন কেমন লাগে। বিশেষ করে যখন আপনি নতুন কারো সাথে পরিচিত হচ্ছেন, যার সম্পর্কে আপনার তেমন কিছুই জানা নেই। আমার এক বন্ধু, ধরুন তার নাম রনি, সে একবার একটা ডেটিং অ্যাপে প্রোফাইল বানিয়েছিল তার নিজের জিমেইল আইডি দিয়ে। প্রথমদিকে সব ঠিকই ছিল, কিন্তু পরে সেই মেয়েটি রনির ইমেইলে স্প্যাম পাঠাতে শুরু করে, এমনকি তার অন্যান্য সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাকাউন্টের লিঙ্কও খুঁজে বের করার চেষ্টা করে। ব্যস! রনি বুঝল, কিছু একটা গণ্ডগোল হচ্ছে।
এখান থেকেই আমার মাথায় আসে, কেন কেনাকাটার জন্য সাময়িক ইমেইল ব্যবহার করা যায়, সেই একই বুদ্ধি ডেটিং অ্যাপের ক্ষেত্রেও কাজে লাগানো যায় না? আমরা তো Bikroy বা Daraz Bangladesh-এর মতো প্ল্যাটফর্মে কেনাকাটার সময় অনেক সময় অস্থায়ী ইমেইল ব্যবহার করি, তাই না? যাতে অপ্রয়োজনীয় মেইল বা অফারগুলো মূল ইনবক্সে এসে ভিড় না জমায়। তাহলে ডেটিংয়ের মতো ব্যক্তিগত ব্যাপারে কেন আমরা একটু বেশি সাবধানী হব না?
কেন মূল ইমেইল বাঁচানো জরুরি?
আপনার মূল ইমেইল, যেমন Gmail বা Yahoo, সেখানে আপনার অনেক ব্যক্তিগত তথ্য থাকে। ব্যাংক স্টেটমেন্ট, বিল পেমেন্টের রসিদ, বন্ধু-বান্ধব বা পরিবারের সাথে যোগাযোগের সব হিস্ট্রি – সব এখানেই। ডেটিং অ্যাপে দেওয়া একটি ইমেইল আইডি যদি কোনোভাবে অপব্যবহার হয়, তাহলে সেটা আপনার জন্য বড় ঝামেলার কারণ হতে পারে। কে জানে, কে আপনার সেই ইমেইল আইডি ব্যবহার করে অন্য কোনো ওয়েবসাইটে আপনার তথ্য খোঁজার চেষ্টা করবে!
এখানেই সাময়িক ইমেইল বা 'বার্নার' ইমেইলের ধারণাটা আসে। এটা অনেকটা ডেটিং অ্যাপের জন্য একটা 'ছদ্মবেশী' প্রোফাইলের মতো। আপনি একটি অস্থায়ী ইমেইল আইডি তৈরি করলেন, সেটা দিয়ে ডেটিং অ্যাপে প্রোফাইল বানালেন। যদি সবকিছু ঠিকঠাক থাকে, তাহলে পরে আপনি আপনার আসল পরিচয় বা ইমেইল শেয়ার করতে পারেন। আর যদি মনে হয়, এই মানুষটির সাথে আর এগোনো ঠিক হবে না, তাহলে তো আপনি সহজেই সেই অস্থায়ী ইমেইল আইডি ডিলিট করে দিতে পারেন। আপনার মূল ইমেইল কিন্তু একদম সুরক্ষিত!
হোয়াটসঅ্যাপের জন্য সাময়িক ইমেইল?
আপনি কি জানেন, হোয়াটসঅ্যাপের মতো প্ল্যাটফর্মেও অনেক সময় ভেরিফিকেশনের জন্য একটি ইমেইল আইডি লাগে, অথবা অনেক অ্যাপ আছে যারা আপনার ফোন নম্বর ছাড়াই হোয়াটসঅ্যাপ অ্যাকাউন্ট খোলার সুবিধা দেয় (যদিও এটা তাদেরTerms of Service-এর বাইরে)। সেখানেও এই সাময়িক ইমেইল কাজে আসতে পারে। ধরুন, আপনি শুধু একবারের জন্য কোনো অ্যাপের সুবিধা নিতে চান, কিন্তু নিজের আসল নম্বর বা ইমেইল দিতে চান না। তখন এই সাময়িক ইমেইল আইডিগুলো আপনার জীবন বাঁচিয়ে দিতে পারে।

কীভাবে ব্যবহার করবেন?
বিষয়টা খুবই সহজ। অনেক ওয়েবসাইট আছে যারা বিনামূল্যে সাময়িক ইমেইল আইডি তৈরি করার সুবিধা দেয়। আপনি সেখানে গিয়ে একটি আইডি তৈরি করে নেবেন। তারপর সেই আইডি ব্যবহার করে আপনার পছন্দের ডেটিং অ্যাপে বা অন্য কোনো ওয়েবসাইটে প্রোফাইল বানাবেন। দরকার হলে, সেই ইমেইল আইডি দিয়ে আপনি ওটিপি (OTP) বা ভেরিফিকেশন কোডও গ্রহণ করতে পারবেন। যখন আপনার মনে হবে, এই আইডি আর দরকার নেই, তখন সেটা ডিলিট করে দেবেন। ব্যাস, আপনার মূল ইমেইল আইডি একদম সুরক্ষিত!
আমার মনে হয়, বিশেষ করে তরুণ-তরুণীদের জন্য এটা একটা দারুণ বুদ্ধি। অনলাইন জগতে নিজেদের সুরক্ষিত রাখাটা খুব জরুরি। ডেটিং অ্যাপে যেমন, তেমনই অনলাইন কেনাকাটায় বা অন্য যেকোনো ওয়েবসাইটে। একটুখানি সতর্কতা আপনাকে অনেক বড় বিপদ থেকে বাঁচাতে পারে। সাময়িক ইমেইল সার্ভিসগুলো ব্যবহার করাটা কোনো কঠিন কাজ নয়, বরং এটা আপনার অনলাইন প্রাইভেসি রক্ষার একটি সহজ উপায়। তো, পরের বার যখন কোনো নতুন অ্যাপে সাইন আপ করবেন, বা কোনো ডেটিং অ্যাপে প্রোফাইল বানাবেন, তখন একবার ভেবে দেখবেন – আপনার মূল ইমেইল আইডিটা কি সত্যিই সেখানে দেওয়া উচিত?
honestly, TempTom-এর মতো সার্ভিসগুলো এই কারণেই এত দরকারি। এরা আপনাকে একটি নিরাপদ এবং অস্থায়ী ইমেইল ঠিকানা দেয়, যা দিয়ে আপনি আপনার আসল পরিচয় গোপন রেখে অনলাইনে বিভিন্ন কাজ সারতে পারেন। এটা আপনার ডেটিং অ্যাপের প্রোফাইল হোক বা কোনো অনলাইন কেনাকাটা, আপনার মূল ইমেইল সবসময় সুরক্ষিত থাকবে।
দ্রুত অস্থায়ী ইমেইল ব্যবহার করে দেখতে চাইলে, রেজিস্ট্রেশন আর ভেরিফিকেশন কোড নিতে নিজের আসল ইমেইল না দিয়েও কাজ হয়ে যায়।