আমার কেন টেম্পোরারি ইমেইলের প্রয়োজন হয়?
বিশ্বাস করুন, প্রথম প্রথম আমিও ভাবতাম, "আমার একটা জিমেইল বা ইয়াহু অ্যাকাউন্ট আছে, আবার কেন এই টেম্পোরারি ইমেইল নিয়ে মাথা ঘামাবো?" কিন্তু কিছু ঘটনা ঘটার পর আমার ধারণা পাল্টে গেছে। ধরুন, আপনি Bikroy.com বা Daraz Bangladesh-এর মতো প্ল্যাটফর্মে কিছু কিনছেন বা বিক্রি করছেন, কিন্তু নিজের আসল ইমেইলটা সেখানে দিতে আপনার মন চাইছে না। কেন? কারণ তারপরই শুরু হয় বিজ্ঞাপনের বন্যা!বাংলা ফোরামে অংশগ্রহণের ধুম!
আমি অনেক বাংলা ফোরামে সক্রিয়। সেখানে প্রায়ই নতুন কিছু ডাউনলোড করতে বা কোনো বিশেষ আলোচনায় অংশ নিতে গেলে ইমেইল আইডি চায়। এখন, এই সব ফোরামে যদি আমি আমার পার্সোনাল ইমেইল দিয়ে রেজিস্টার করি, তাহলে কিছুদিন পর থেকেই স্প্যাম আর অপ্রয়োজনীয় মেইলের জঞ্জাল জমতে শুরু করে। আমার মূল ইনবক্স তখন পুরো অগোছালো হয়ে যায়। "এই ইমেইলটা কি দরকারি ছিল?" – এই প্রশ্নটা ঘুরতেই থাকে।গুরুত্বপূর্ণ ডকুমেন্ট গ্রহণের ঝক্কি
আর একটা বড় সমস্যা হলো, যখন কোনো অনলাইন কোর্স বা লাইব্রেরি জার্নাল শুধু একবার ব্যবহারের জন্য অ্যাক্সেস দেয়। ধরুন, আমি কোনো বিশেষ বিষয়ের উপর একটা PDF ডাউনলোড করতে চাইছি, যার জন্য একটি ইমেইল ভেরিফিকেশন দরকার। সেখানে আমি যদি আমার আসল ইমেইলটা দিই, তাহলে ভবিষ্যতে ওই ওয়েবসাইট থেকে আসা হাজারটা মেইল আমার ইনবক্সে ঢুকবে। এই অবস্থায়, একটা টেম্পোরারি ইমেইল যেন ত্রাণকর্তা! কিছুক্ষণের জন্য একটা ইমেইল আইডি তৈরি হলো, ভেরিফিকেশন কোড এলো, ডকুমেন্ট ডাউনলোড হয়ে গেল – ব্যস, কাজ শেষ। ওই ইমেইল আইডি-র আর কোনো প্রয়োজন নেই।উত্তরহীন ইমেইল: এক অন্য জ্বালা
আপনি কি কখনো এমন কোনো ওয়েবসাইটে রেজিস্টার করেছেন যেখানে আপনি নিশ্চিত নন যে তারা আপনার ইমেইলের উত্তর দেবে? অথবা ধরুন, আপনি কোনো সার্ভিস ট্রাই করতে চান, কিন্তু তাদের সার্ভিসের ব্যাপারে আপনার কিছু প্রশ্ন আছে। আপনি আপনার আসল ইমেইল দিয়ে তাদের কন্টাক্ট ফর্মে লিখলেন, কিন্তু উত্তর পেলেন না। কয়েকদিন পর দেখা গেল, আপনার ইনবক্সে তাদের ওয়েবসাইটের প্রচারমূলক মেইল আসা শুরু হয়েছে! এটা আমার কাছে খুবই বিরক্তিকর। এই ক্ষেত্রে, একটা টেম্পোরারি ইমেইল ব্যবহার করলে, যদি তারা উত্তর না-ও দেয়, আপনার আসল ইমেইলটা নিরাপদ থাকে। আমার এক বন্ধু, রফিক, সে একবার একটা অনলাইন গেম খেলার জন্য একটা ওয়েবসাইটে রেজিস্টার করেছিল। সে তার পার্সোনাল ইমেইল আইডি দিয়েছিল। কিছুদিন পর সে গেমটা আর খেলত না, কিন্তু ওই ওয়েবসাইট থেকে আসা মেইলের জ্বালায় সে অতিষ্ঠ হয়ে গিয়েছিল। শেষমেশ তাকে ওই ইমেইল আইডি-র পাসওয়ার্ড পাল্টাতে হয়েছিল, শুধু মেইল আসা বন্ধ করার জন্য। আমি তখন ওকে টেম্পোরারি ইমেইলের কথা বলেছিলাম।শিক্ষামূলক প্ল্যাটফর্ম ও আমার টেম্পোরারি ইমেইল
আমার মনে আছে, একবার আমি একটা দারুণ অনলাইন কোর্স খুঁজে পেয়েছিলাম, কিন্তু সেটা ছিল পেইড। তবে, তারা প্রথম একটি চ্যাপ্টার বিনামূল্যে দেখার সুযোগ দিচ্ছিল, যার জন্য একটি ইমেইল ভেরিফিকেশন লাগত। আমি আমার মূল ইমেইল ব্যবহার করতে চাইনি, কারণ আমি জানতাম, এরপর তাদের কাছ থেকে নানা ধরনের অফার আসতে শুরু করবে। তাই আমি একটা টেম্পোরারি ইমেইল ব্যবহার করে সেই চ্যাপ্টারটি দেখে নিই। এটা আমাকে শুধু ওই কোর্সের মান যাচাই করতেই সাহায্য করেনি, বরং আমার ইনবক্সকেও পরিষ্কার রেখেছে।তাহলে উপায় কী?
আসলে, আমাদের সবারই এমন কিছু মুহূর্ত আসে যখন আমরা চাই আমাদের মূল ইমেইল আইডি গোপন রাখতে। বাংলা ফোরাম হোক, কোনো ছোটখাটো অনলাইন সার্ভিসের জন্য হোক, অথবা কোনো বিশেষ ডকুমেন্ট ডাউনলোড করার জন্য – টেম্পোরারি ইমেইল সার্ভিসগুলো আমাদের সেই সুযোগটা দেয়। এগুলো ব্যবহার করা খুবই সহজ। আপনি কিছুক্ষণের জন্য একটি ইমেইল আইডি পাবেন, নির্দিষ্ট সময়ের পর সেটি আপনাআপনি ডিলিট হয়ে যাবে। এতে আপনার ব্যক্তিগত তথ্য সুরক্ষিত থাকে এবং অপ্রয়োজনীয় মেইলের ভিড় এড়ানো যায়। Honestly, এটা একটা ছোট কিন্তু খুবই দরকারি টুল। আমার মনে হয়, TempTom-এর মতো সার্ভিসগুলো এই কারণেই এত জনপ্রিয়। এরা আমাদের এই সুবিধাটাই দেয় – প্রয়োজন অনুযায়ী ইমেইল ব্যবহার করা এবং পরে নিশ্চিন্তে ভুলে যাওয়া।
দ্রুত অস্থায়ী ইমেইল ব্যবহার করে দেখতে চাইলে, রেজিস্ট্রেশন আর ভেরিফিকেশন কোড নিতে নিজের আসল ইমেইল না দিয়েও কাজ হয়ে যায়।