হোম নিবন্ধ সোশ্যাল মিডিয়ার অল্টার অ্যাকাউন্ট ও টেম্পোরারি ইমেইল: পরিচয় গোপন রাখার কৌশল
সোশ্যাল মিডিয়ার অল্টার অ্যাকাউন্ট ও টেম্পোরারি ইমেইল: পরিচয় গোপন রাখার কৌশল

সোশ্যাল মিডিয়ার অল্টার অ্যাকাউন্ট ও টেম্পোরারি ইমেইল: পরিচয় গোপন রাখার কৌশল

সোশ্যাল মিডিয়ার অল্টার অ্যাকাউন্ট ও টেম্পোরারি ইমেইল: পরিচয় গোপন রাখার কৌশল

অনেকেই এখন সোশ্যাল মিডিয়ায় নিজেদের আসল পরিচয়ের বাইরে অন্য নামে, অন্য প্রোফাইলে বিচরণ করেন। টিকটক, ইনস্টাগ্রাম বা এক্স-এ 'অল্টার' অ্যাকাউন্ট খোলার এই ট্রেন্ড বেশ জনপ্রিয়। কিন্তু যখন এই ধরনের অ্যাকাউন্টে সাইন আপ করার প্রয়োজন হয়, তখন কি নিজের আসল জিমেইল বা ইয়াহু ইমেইল ব্যবহার করা বুদ্ধিমানের কাজ?

কেন ব্যক্তিগত ইমেইল এড়িয়ে চলবেন?

ছোট্ট একটা উদাহরণ দিই। ধরুন, আপনি কোনো বাংলা ফোরামে বা বিকিকিনি সাইট যেমন Bikroy বা Daraz Bangladesh-এ শুধু একবারের জন্য কিছু তথ্য দেখতে বা একটা ডকুমেন্ট ডাউনলোড করতে চান। এর জন্য যদি আপনার মূল ইমেইল আইডি ব্যবহার করেন, তাহলে সেই সাইটগুলো থেকে ক্রমাগত স্প্যাম বা অপ্রয়োজনীয় ইমেইল আসতে শুরু করবে। একবার ভেবে দেখুন, আপনার পার্সোনাল ইনবক্স যদি এই ধরনের আবর্জনা দিয়ে ভরে যায়, তাহলে জরুরি ইমেইল খুঁজে বের করা কতটা কঠিন হয়ে পড়ে। বিশেষ করে যখন আপনি কোনো সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মে একটা 'অল্টার' অ্যাকাউন্ট খুলছেন, তখন আপনার উদ্দেশ্যই হলো কিছুটা anonymity বজায় রাখা। এই অল্টার অ্যাকাউন্টের সাথে আপনার আসল ইমেইল আইডি জুড়ে দেওয়া মানে হলো, আপনার আসল পরিচয় আর গোপন রইল না। যদি সেই প্ল্যাটফর্ম বা অন্য কোনো থার্ড-পার্টি আপনার ইমেইল ডেটা ব্যবহার করে, তাহলে আপনার ব্যক্তিগত তথ্য ফাঁস হয়ে যাওয়ার ঝুঁকি থাকে।

টেম্পোরারি ইমেইলের ব্যবহার

এখানেই আসে টেম্পোরারি বা ডিসপোজেবল ইমেইলের ধারণা। এই ধরনের ইমেইল সার্ভিসগুলো আপনাকে একটি সাময়িক ইমেইল ঠিকানা দেয়, যা কিছু মিনিটের বা কয়েক ঘণ্টার জন্য কার্যকর থাকে। এর সবচেয়ে বড় সুবিধা হলো, আপনাকে কোনো ব্যক্তিগত তথ্য দিতে হয় না, কোনো অ্যাকাউন্ট খুলতে হয় না। শুধু ওয়েবসাইটে যান, একটি ইমেইল ঠিকানা তৈরি করুন এবং ব্যবহার করুন। ধরুন, আপনি কোনো অনলাইন সার্ভে পূরণ করছেন বা কোনো ওয়েবসাইটের সীমিত কনটেন্ট অ্যাক্সেস করার জন্য একটি ইমেইল ভেরিফিকেশন প্রয়োজন। এই সব ক্ষেত্রে, একটি টেম্পোরারি ইমেইল আইডি ব্যবহার করা বুদ্ধিমানের কাজ।

কোন কোন ক্ষেত্রে টেম্পোরারি ইমেইল কাজে আসে?

* বাংলা ফোরাম এবং কমিউনিটি সাইট: কোনো ফোরামে শুধু একবার পোস্ট করার জন্য বা কমেন্ট করার জন্য যদি অ্যাকাউন্ট খোলার প্রয়োজন হয়। * ডকুমেন্ট গ্রহণের ইমেইল: কোনো ওয়েবসাইট থেকে একবারের জন্য কোনো পিডিএফ বা অন্য ডকুমেন্ট ডাউনলোড করার জন্য। * অনলাইন সার্ভে বা কুইজ: কিছু সার্ভে বা কুইজে অংশগ্রহণের জন্য ইমেইল আইডি চাওয়া হয়। * সোশ্যাল মিডিয়ার 'অল্টার' অ্যাকাউন্ট: ইনস্টাগ্রাম, টিকটক, এক্স বা অন্য প্ল্যাটফর্মে নতুন প্রোফাইল খোলার সময়। * বিক্রয় বা কেনাকাটার সাইট: Daraz Bangladesh বা Bikroy-এর মতো প্ল্যাটফর্মে মাঝে মাঝে অফার বা ডিসকাউন্ট পেতে নতুন অ্যাকাউন্ট খোলার প্রয়োজন হতে পারে।

কীভাবে ব্যবহার করবেন?

অনেক টেম্পোরারি ইমেইল সার্ভিস আছে, যেমন TempTom। আপনি যেকোনো একটি বেছে নিতে পারেন। ওয়েবসাইটে গিয়ে একটি ইমেইল আইডি জেনারেট করুন। সেটি ব্যবহার করে সাইন আপ বা ভেরিফিকেশন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করুন। ইনবক্স চেক করার জন্য সেই ওয়েবসাইটেই একটি ইনবক্স সেকশন থাকে, যেখানে আপনি আসা ইমেইলগুলো দেখতে পাবেন। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে, এই ইমেইলগুলো ২৪ ঘণ্টা পর বা নির্দিষ্ট সময় পর নিজে থেকেই ডিলিট হয়ে যায়। মনে রাখবেন, টেম্পোরারি ইমেইলগুলো অত্যন্ত সংবেদনশীল বা গুরুত্বপূর্ণ তথ্যের জন্য ব্যবহার করা উচিত নয়। এগুলো মূলত সাময়িক প্রয়োজন মেটানোর জন্যই তৈরি। আপনার আসল পরিচয় ও তথ্যের সুরক্ষার জন্য এটি একটি কার্যকর পদ্ধতি।

A different temp inbox per site makes it easier to tell which service leaked the address.

দ্রুত অস্থায়ী ইমেইল ব্যবহার করে দেখতে চাইলে, রেজিস্ট্রেশন আর ভেরিফিকেশন কোড নিতে নিজের আসল ইমেইল না দিয়েও কাজ হয়ে যায়।